Tuesday, September 15, 2015

ব্যাঙ্গালোরের কাছাকাছি দশটি বেড়ানোর জায়গা

ব্যাঙ্গালোরের কাছাকাছি দশটি বেড়ানোর জায়গা

ব্যাঙ্গালোরের কাছাকাছি দশটি বেড়ানোর জায়গাব্যাঙ্গালোরের কাছাকাছি রয়েছে অনেক পর্যটনকেন্দ্র। শনি রবি সুযোগ পেলেই ঘুরে আসা যায় এমন জায়গার অভাব নেই। পাহাড়, সমুদ্র, ঐতিহাসিক স্থান, জঙ্গল এরকম সব মিলিয়ে আমরা বেছে নিলাম দশটি স্থান  যেখানে আপনাকে অবশ্যই একবার যেতে হবে যদি আপনার ঘুরতে ভালো লাগে।
১. মাইসোর
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ১৪৫ কিমি
বেশ কিছুদিন ব্যাঙ্গালোরে রয়েছে অথচ মাইসোর যায়নি এরকম পর্যটক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দক্ষিন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এই শহর।  মাইসোর প্যালেস, চিড়িয়াখানা, চামুন্ডি হিলস, সেন্ট ফিলোমেনা চার্চ, ললিত মহল, বৃন্দাবন গার্ডেন ইত্যাদি এই শহরের অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ।
mysore
২. কুর্গ
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ২৩৮ কিমি
কর্ণাটকের দক্ষিন পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতের একটি অপূর্ব সুন্দর হিল স্টেশন কুর্গ। সবুজ উপত্যকা, ঘন জঙ্গল ও কুয়াশা আবৃত পাহাড়ের চুড়ো কুর্গের বৈশিষ্ট যা কিনা আবার “ভারতের স্কটল্যান্ড” বলেও পরিচিত। কুর্গের কফি আর মশলা খুব বিখ্যাত। রাজা সিট, আবে ফলস, দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প, নিসর্গধামা, কুশলনগর ইত্যাদি কুর্গের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।
coorg
৩. মসিনাগুড়ি
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ২৩৮ কিমি
তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের সীমান্তে অবস্থিত জঙ্গল মসিনাগুড়ি পাখি ও পশুপ্রেমী দের জন্য আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে রয়েছে জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা। হরিণ আর হাতির দেখা তো মিলবেই আর কপাল ভালো থাকলে দেখা পেয়ে যেতে পারেন বাঘেরও।
masinagudi
৪. মালপে
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ৪০৭ কিমি
সমুদ্র ভালো লাগলে আপনাকে আসতেই হবে মালপে তে। ম্যাঙ্গালোর থেকে ৬০ কিমি দুরে, উড়ুপি শহরে খুব কাছেই মালপে। সাদা বালি, নীল সমুদ্র আপনাকে আকৃষ্ট করবেই। মালপে থেকে বোট ভাড়া করে চলে যেতে পারেন সেন্ট মেরি আইল্যান্ড।
malpe
৫. হাম্পি
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ৩৪৪ কিমি
বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল হাম্পি। তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত হাম্পি তে ছড়িয়ে রয়েছে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের নানা কারুকার্য আর স্মৃতিসৌধ। বিরুপাক্ষ মন্দির, কাদালেকালু গণপতি, কৃষ্ণ মন্দির, হাজারা রামা মন্দির, পুষ্করিণী, কমল মহল, হাতিশালা, কুইন’স বাথ, বিজায়া ভিত্তালা মন্দির, বরাহ মন্দির, বিষ্ণু মন্দির, সুগ্রিব মন্দির ইত্যাদি হয়ে সাক্ষী রয়েছে বিজয়নগরের সমৃদ্ধি আর শিল্পকলার।
hampi
৬. চিকমাগালুর 
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ২৪৩ কিমি
ছবির মত হিল স্টেশন এই চিকমাগালুর। বিখ্যাত কফি এস্টেট আর হোম স্টে-র জন্য। বাবা বুদানগিরি, মুল্যানগিরি, কুদ্রেমুখ, ভদ্রা অভয়ারণ্য, হেব্বে ফলস প্রভৃতি হলো এখানকার বিখ্যাত জায়গা।
chikamagalur
৭. বাদামি
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ৪৫৫ কিমি
বাদামি চালুক্য রাজবংশের রাজধানী ছিল এবং এটি চালুক্য স্থাপত্যের চমৎকার দৃষ্টান্ত বহন করা চলেছে। গুহার ভিতরের পাথর খোদাই করা কারুকার্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
badami
৮. মহাবলীপুরম
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ৩৫০ কিমি
সমুদ্র, ঐতিহাসিক মন্দির আর অসাধারণ সি-ফুড, সব মিলিয়ে মহাবলীপুরম ভ্রমন পিপাসু দের মনের মতন জায়গা।
mahabalipuram
৯. কুনুর
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ৩০২ কিমি
নীলগিরি পর্বতের কোলে, উটি থেকে ২০ কিমি দূরে পাহাড়ি শহর কুনুর। টি গার্ডেন, সিম’স পার্ক, ডলফিন নোজ, পাস্তুর ইনস্টিটিউট, দ্রুগ ফোর্ট ইত্যাদি এই শহরের অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান।
coonoor
১০. ইয়েরকড 
ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব: ২৩০ কিমি
তামিলনাড়ু-র একটি ছোট্ট হিল স্টেশন ইয়েরকড। সেলম শহরে খুব কাছেই এই ইয়েরকড। রয়েছে বেশ কয়েকটি ভিউ পয়েন্ট আর তাছাড়া দেখতেই হবে কিলিয়ুর জলপ্রপাত, ইয়েরকড লেক।
yercaud

Sunday, September 13, 2015

ঢাকা টু কলকাতা

যেভাবে যাবেন ঢাকা টু কলকাতা

যেভাবে যাবেন ঢাকা টু কলকাতা
কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।
প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে। যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।

চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন। মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।
বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।

কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।
এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।
এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে। বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট। অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।